02/04/2026

ভোটার ও মেসোমশাই


কেউ দিচ্ছেন রান্না করে
কেউ দাড়িগোঁফ কামিয়ে
কেউ নিচ্ছেন চরণধূলি 
অফিসফেরত, থামিয়ে। 

কেউ দিচ্ছেন থ্রেট-টেট, কেউ
প্রাচীন ঘা-দের বিষিয়ে 
কেউ দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি 
ধর্মাধর্ম মিশিয়ে। 

কেউ ছুটছেন, কেউ বা নদী
পার হয়ে যান সাঁতরে।
কেউ বলছেন, 'বৌ, ছেলে-কে
পাঠিয়ে দেব রাত্রে

কুটনো কাটা, মশলা বাঁটা
আনাজপাতি বাজারে
আনবে কিনে, গ্যাস,  বিদ্যুৎ 
মিটিয়ে দেবে যা যা রেট। 

নিজের ভেবে যখন খুশি
করুন না ফাইফরমাশ
হাস্যমুখে হাজির হবে
বৌ, ছেলে, এই শর্মা। 

চান যদি তো দিতেও পারেন
আলতো এক আধ চাপড়
ইচ্ছে হলে আমার ছাদেই
শুকোন জামাকাপড়।

দিচ্ছি কথা জিতলে দেবো
যখন যেটা দেবার
আরেকটিবার যদি জোটান 
সুযোগ জনসেবা-র।'

বলল ভোটার, হাসি মুখে 
'ঘি খান, দুধে আঁচান
ফিতে কাটেন, ধন্য করেন
লোকাল ক্লাবের মাচান।

দেহের ওজন বইতে হারে
এক আধ ডজন লেবার
সেই আপনিই ভার নিয়েছেন 
মশাই, জনসেবা-র!

বলছি মায়া ছাড়ুন এসব
জনসেবা-র নেশার
তারচে বরং বদ্যি ডেকে
মাপান সুগার, প্রেশার।

মুখ্যু মানুষ, বোতাম টিপি
যখন যাকে পোষাই। 
আপনি বরং নিজের ভালো 
ভাবুন মেসোমশাই!

29/12/2025

অবিশ্বাসীদের

কবিতা লিখেই ক্ষান্ত হননি 
খেলেছেন তিনি ক্রিকেটও
তার প্রতিভার কাছে নজরুল 
রবীন্দ্রনাথও ফিকে তো!

তার সাথে কোনো তুলনা হয় না
শচীন,  সোবার্স, বোথামের।
একাই একশো আগলে বঙ্গ
 ব্যাটমান যেন গোথামের। 

 ফুটবলে তিনি গোল করেছেন
লড়েছেন তিনি ডুয়েলে
সরে গিয়েছেন বিদ্যুৎগতি
বুলফাইটের ঢুঁ এলে! 

এঁকেছেন ছবি, লিখেছেন ছড়া
ফুঁ-ও দিয়েছেন বাঁশিতে
একতারা ধরে গান তুলে দেন
এখনো হাসিতে হাসিতে।

এইসব ডাঁহা মিথ্যে যে নয়
বলেছেন খ্যাতনামারা
সভাকবি,  নেতা, বুদ্ধিজীবীরা
কিংবা তাদের মামারা

পেপার ক্লিপিংয়ে রেখেছে সাক্ষ্য 
টিভির চ্যানেলে চ্যানেলে
কেউ পেড, কেউ আনপেড, তারা
যত এক্সপার্ট প্যানেলে

অকাট্য কত যুক্তির প্যাঁচে
পেড়ে ফেলেছেন বিরোধী 
আম জনতাও নিয়তির মতো
মেনেও নিয়েছে চিরদিন 

যে রাঁধে, সে চুল বাঁধতেও পারে
নেত্রী হাঁকায় ছক্কাও। 
নরকেও দেখো জায়গা হবে না
যদি ট্রোল করো, শক খাও!


স্তব

শারদীয় প্রেমিকের প্রস্থানের পর
কথা ছিল
কিশোরীর ঠোঁট থেকে উচ্ছিষ্ট আদ্রর্তাটুকু
এইবার, শুষে নেবে শীত। 

সে আশায় কোল্ড ক্রীমের বিজ্ঞাপনে 
নায়িকা'র খোলা পেট চেটেছে ক্যামেরা 
রাস্তায় উড়েছে ধুলো; ডিসেম্বর বাতাসে
খেজুরে গুড়ের গন্ধেও যেন কোন অদৃশ্য ইঙ্গিত!

তবু এখনো আসেনি শীত (তোমার মতোই সুচতুরা )
এখনো পড়েনি হিম; বোমারু বিমান
ছড়িয়েছে ঘৃণা-বীজ নামহীন মফস্বলে
বিরান জলা'তে; কালাশনিকভ
প্রত্যন্ত শহরের অজস্র দেওয়ালে লিখে গেছে উষ্ণায়ন
লিখে গেছে পরিযায়ী পাখিদের না আসা'র কথা।

ভীষণ কুয়াশা-মাখা এই মৃত্যু-পূর্ণিমায় যদি
তোমার চাঁদের নাম আশাতীত রাখি, প্রিয়তমা
জেনে নিও স্তুতি নয়, স্তব।

22/11/2025

পাকাপাকি

সকালে উঠেই বৌ পাকা গৃহিণীর মতো সুর করে বলল, 'ও গো, শুনছ, তুমি নারকেলগুলো একটু কুরে দিও, রান্নাটা হয়ে গেলে পাকটা আমিই করে নেবো। পরে তুমি নাহয় নাড়ুগুলো পাকিয়ে দিও।  

ভারতের কাছে কাশ্মীর যা, আমার কাছে নারকেল নাড়ুও তাই।  কাজেকাজেই তা নিয়ে কোনো থার্ড পার্টি তা সে কাজি কিংবা পাজি যেই হোক না কেন, কারো পাকনামি মানতে আমি নারাজ।  আমি নিজে নারকেল কুরে নিই, নিজেই পাক দিয়ে নারকেল,  চিনি, শুকনো দুধ, এলাচ ইত্যাদি মেশানো দ্রবণটুকু বানিয়ে, নিজের হাতে নাড়ুও পাকাই।  (নিজেই খাই, অন্তত সিংহভাগ তো বটেই!) কাজেকাজেই বৌয়ের নাপাক অভিসন্ধির কথা শুনে বললাম, 'তুমি কোন পাক-স্থানের মেয়ে এয়েচ যে পাক দেবে! পাকামি করে স্বপাকের কথা না ভেবে বরং খেয়েদেয়ে ছাদে উঠে ক পাক দিয়ে এসো, তাতে পরিপাকও ভালো হবে আর পাকাপাকিভাবে শরীরটাও কমবে। তার মধ্যেই আমার পাক দেওয়া, নাড়ু পাকানো সব হয়ে যাবে। কিন্তু বৌয়েরা আর কবে সোনা ছাড়া বরের কথা শোনে! বর জোর করলে বড়জোর শোনার মেথড অ্যাক্টিং করে মাত্র।  কাজেকাজেই  পাকচক্রে পড়ে আমাকে ধুসস শালা বলে পাকশালা থেকে সরে এসে শালা পাক-দের খেলায় মনোনিবেশ করতে হল। মিনিট দশেক খেলা দেখার পর পাক-স্থলী থেকে বৌ চেঁচালো, 'একবার এসো তো, এ তো পেকে প্রায় লাল হয়ে গেল কিন্তু তবু পাকটা ঠিকঠাক হলো বলে তো মনে হচ্ছে না। পাকিদের বাকি খেলা রেখে আনলাকি আমি আকাবাকি করে গিয়ে দেখি বৌ খুন্তিটাকে ছোট লাঠির মতো ধরে মিশ্রণটার পেটে বেদম খোঁচাখুঁচি করছে। বললাম, 'এ কী! পাক-দণ্ডী দিয়ে বেচারা পাকটাকে অহেতুক দণ্ড দিচ্ছ কেন?' বৌ ঘৌ ঘৌ করে বলল, 'তোমার খুরে দণ্ডবৎ,  এখন আমাকে ব্যঙ্গ না করে পাকটাকে কী করে পাক বানানো যায় সেটা ভাবো।' আমি বললাম, 'এ কি ঘর ওয়াপসি নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্প!  পাককে আবার পাক বানাবো কী করে!' বৌ বলল, 'দেখ না, কেমন গুঁড়োগুঁড়ো, ঝুড়োঝুড়ো হয়ে আছে, এ দিয়ে না নাড়ু পাকানো যাবে, না দামি জিনিস ঝাড়ু দিয়ে ফেলে দেওয়া যাবে! 
'জব দো, জব দো' করে রাস্তাঘাটে ঝামেলা পাকানো লোকগুলোকে পুলিশ দিয়ে ঠ্যাঙানোর মতো বৌকে জব্দ হতে দেখার মধ্যেও একটা আলাদাই পৈশাচিক আনন্দ আছে। 
কিন্তু সে আনন্দ তো নেতামন্ত্রীদের আয়ুর মতো পাকাপোক্ত কিছু না, বরং বায়ুর মতো অনুভব করছি কিন্তু দেখতে পাচ্ছি না গোছের কিছু একটা মেমফুর্তি বটে! কাজেকাজেই আমিও হালকা Sorrow-র অভিনয় করে, বল্লুম, 'সরো তো, দেখি, কী করা যায়! আশা ছিল একটু জল দিয়ে, জ্বাল দিলেই সিন্ধুচুক্তির মতো বেঁড়েপাকা পাকটাকে ম্যানেজ করে নিতে পারব। তবে মনেমনে জানতাম, যতই মিনিট পাঁচেক অন্তর কথায় কথায় 'গো' 'গো' করে বেচারা বরদের আশেপাশে গোঁত্তা খাক না কেন, বৌ-রা মোটেও গোবেচারা হয় না। আপাতত ল্যাজেগোবরে হয়ে গেছে বলেই সিঁড়িতে বসেবসে জুলজুল করে চেয়ে দেখছে বটে কিন্তু এরপর আমিও ধ্যাড়ালে হুল ফোটাতে কার্পণ্য করবে না। তাই
খানিক সাবধানে দ্রবণটার মধ্যে বেশ খানিকটা জল ঢেলে আবার আঁচে চড়িয়ে ফোটাতে শুরু করলাম। খানিক ফোটার পরই বোঝা গেল, পাক এবার সোজা রাস্তায়, আই মিন গোটা বাঁধার মতো অবস্থার দিকে আসছে। বললাম,  'চেখে দেখো, প্রয়োজনে খানিকটা মেখেও দেখতে পারো। তোমার ঝুড়ো পাক খানিক ঘুরে এসে কেমন আঠা আঠা হয়ে গেছে।' বৌ কাছে এলে খানিক মিশ্রণ হাতে নিয়ে, পাক দিয়ে নাড়ু পাকিয়ে তার নাকের কাছে ধরলাম। 'ঘি, এলাচ এসবের গন্ধ পাচ্ছ?' বৌ নাক দিয়ে গন্ধ শুঁকল বটে তারপর 'হুহ্' বলে হুহ্কার তুলে তোয়ালে, নাইটি নিয়ে বাথরুমের দরজা বন্ধ করল। ঢোকার আগে রাগে গজগজ করতে করতে গেল,  ' কুচো নিমকিতে তাহলে আমি আর হাত দিচ্ছি না!'



ছাপোষা সিরিজ


প্রেম নেই।  ডি.এ নেই। না পুজোতে পোকা
চিপসের প্যাকেটেও বারোআনা ধোঁকা

জীবন এখন গাধা; কুঁজো পিঠে বোঝা
কিংবা নেড়ির পিছে ফুলঝুরি গোঁজা। 

হয়নি পাহাড়ে যাওয়া, সুখী গৃহকোণে
সাগর, পাহাড় দেখি বসে স্মার্টফোনে। 

বুকনি ও বাণী দেখি, চুপিচুপি আর
দেখি, পোঁদ নেড়ে নাচে টিকটক স্টার।

না উপরে মেঘ আছে না নিচুর চাপ
কালী পুজো খালি যাবে বলেছে আ.বা.প।

বন্ধুরা কাছে নেই বুঝি সেই পাপে
একাএকা ঢেউ গুনি সিক্সটি-র মাপে। 

প্যান্ডেলে বাজি পোড়ে। ছাদে ওড়ে ফানুস।
মা মা বলে নাক ধরে ডাক পাড়ে শানু। 

20/11/2025

রাজকাহিনী

রাজকাহিনী

কেও ভালবাসে মাছ‚ কেউ আলুপোস্ত
খাদ্যরসিক হলে চট পেতে বোস তো

কেউ ভালবেসে যদি মেনু ভুলে আঁশ খায়
কেউ আরো অহিংস, শুধু কাঁচা ঘাস খায়

মামনি'রা হট, ওরা ফুচকা'তে ঝাল খাক
প্রাইমারি মাস্টার "মিড ডে'র মাল খাক

আঁতেলেরা বার খাক, বিরোধী'রা ক্যালানি
মন্ত্রীরা দেশ খাক, পুলিশেরা প্যালা নিক

পাঁঠা খাক ব্রাহ্মণে‚ গোরু খাক দলিতে
মেয়েদের লাশ খাক হায়না'রা গলি'তে

জেহাদের গ্যাস খাক মুসলিম ভায়ে'রা
মা দুগগা পূজা খাক, লাথি খাক মায়ে'রা

বেশ্যার লেগপিস, কালচার-পাখনা
মেনুকার্ড দেখে‚ যে যা ভালবাসে, খাক না।

খাওয়াই আসল‚ বস‚ খিদে ধ্রুব সত্যি
অন্যের খাওয়া দেখে তোর কী আপত্তি?

কেন শুধু শুধু তুই মরছিস হামলে?
আয় না‚ খাওয়াতে ফিরি গোলযোগ থামলে

তা না যদি ফিরিস, তো বলে দেব বানিয়ে
খাদ্যরসিক নোস, চোখ ছিল পানীয়ে!!