02/12/2015

বিন্দাস বাংলা ব্যুম

রিয়েলিটি শোয়ের মত করে সাজানো আলোচনার
মঞ্চ। একজন অ্যাঙ্কার নিম্নাঙ্গে ধুতি আর উর্দ্ধাঙ্গে জংলা ছোপ দেওয়া টি শার্ট পড়ে এম টিভির ডিস্ক জকিদের স্টাইলে কথা বলছেন। পেছনে টেবিল ও চেয়ার সাজানো।

- ইয়ো ড্যুডস অ্যান্ বেবস অব বেঙ্ঘল। বেঙ্ঘলি নিউ ইয়ার্স ইভ বা নাবোবার্ষের প্রাক্কালে জাহাজমার্কা আলকাতরা প্রযোজিত এই বিন্দাস বাংলা ব্যুম অনুষ্ঠানে আপনাদের স্বাগত।এই অনুষ্ঠান একই সাথে বর্ষবরণ, আলোচনাচক্র এবং টু সাম এক্সটেন্ট রিয়েলিটি শোও।  ধর্মবর্ণ জাতি নির্বিশেষে, পলিটিক্যাল ফলিটিক্যাল ব্যাপার স্যাপার ভুলে,এমন সব পার্সোনালিটি আমাদের মধ্যে আজ এসেছেন,যাদের নাম শুনলে আপনারা চমকে যাবেন। সো মাই ডীয়ার ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফো'জ , লেঠ মি ইন্ট্রোডিউস আওয়ার পার্টিসিপ্যান্ট অ্যান্ড গেস্ট উইথ ইউ।

(হাত দিয়ে চেয়ারে বসে থাকা অভ্যাগতদের দিকে দেখালেন, অতিথিরা চেয়ারে বসে আছেন। প্রত্যেকের বুকে একটা করে সাদা বোর্ড আটকানো, তাতে কোনোটাই লেখা আধুনিক কবি, কোনোটাই লেখা গায়ক,কোনোটাই লেখা রাজনৈতিক দালাল, কোনোটাই বামপন্থী বা ডানপন্থী বুদ্ধিজীবী,ইত্যাদি ইত্যাদি

অ্যাঙ্কর - প্রথমেই আপনাদের সাথে আলাপ করিয়ে দিতে চাইব একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের্। (পেছনের চেয়ার থেকে কে যেন অস্ফুটে বলে উঠলো শালা!)
তিনি হলেন আমাদের প্রাক্তন …

১ম রাজনৈতিক দালাল - হ্যাঁ , আজ আমরা হয়ত প্রাক্তন , কিন্তু বন্ধুগন, বিপ্লব আসন্ন। মানুষ একবার ভুল করেছেন , এবার ভোটে বিপ্লব ঘটিয়ে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করবেন। অনেকে আমাদের আঞ্চলিক দল বলে ঠাট্টা করে, কিন্তু ওরা ভুলে যায়;  আমরা শুধু জাতীয় নই, আমরা ইন্টার্ন্যাশনাল। গত বাহান্নো বছরে আমরা দেশকে অনেক কিছু দিয়েছি। আমরা …আমরা আমরা …(কিছু মনে করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে) সে যাক গে, নামটা বড় কথা নয়। আসলে এত বেশী কাজ আমরা করেছি, মনে করে বলাটা একটু চাপেরই বটে। মানুষকে আমরা  "রোটি, কপড়া, মকান" দিয়েছি। কিন্তু বুঝতে পারিনি, মানুষ এখন পাঁঊরুটি খেতে চাইছে। এই নববর্ষে আমাদের বিশ্বাস নেই বন্ধুগন, এই দেশীয় নববর্ষ. পেটি বুর্জোয়াদের তৈরি। তাই আমরা একমাত্র রাশিয়ান ক্যালেন্ডারে ভরসা রাখি। সেই ক্যালেন্ডারের দিব্যি, আমরা ওই বা*ছা* শেকড় ফেকড় উপড়ে ফেলে দিয়ে আবার নিজেরা লাল হয়ে যাবো, আই মীন সুদিন ফিরিয়ে আনবো। আমরা জিতলে নিজেদের সাফল্যে গদগদ হতে জানি ,আবার হেরে গেলে মানুষ ভুল করেছে বলে স্যাট করে সাইজ হতেও জানি। আমাদের কর্পোরেট বিপ্লবকে সফল করতে আপনারা বিপুল ভোটে আমাদের জয়যুক্ত করবেন , এই আশা রেখে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

অ্যাঙ্কর - বা:! হোয়াট আ স্পিচ। পরিচয়েই যদি এই হাল হয়, জানিনা সুযোগ পেলে কি মাল বের হবে!
সে যায় হোক, এবার আলাপ করিয়ে দিচ্ছি একজন বিখ্যাত গায়ক সাথে। হ্যাল্লো স্যার (গায়কের হাতে হাত মেলালেন)

গায়ক - নমস্কার।

অ্যাঙ্কর - আপনি আজ আমাদের কি উপহার দিচ্ছেন?

গায়ক - উপহার?  না, উপহার কেন দেবো? আমাকে তো বলা হয়েছিল এখানে গান গাইলে আপনারাই শ দেড়েক টাকা আর দুখানা গামছা দেবেন,

অ্যাঙ্কার - না মানে আপনি কি করবেন, আই মীন গাইবেন?

গায়ক - আমি আজ একখানি রবীন্দ্রসংগীত গাইবো।

অ্যাঙ্কর - রবীন্দ্রসংগীত? বেশ। আমরা লিস্টে লিখে নিলুম। তা গানটা কার লেখা বলুন, কে সুর দিয়েছেন? মানে ঘোষণা করার সময় সবই বলতে হবে তো , তাই…

গায়ক- ধুর মশাই!  রবীন্দ্রসংগীত আবার কার লেখা হবে! যত্তসব!

অ্যাঙ্কর - আচ্ছা ঠিক আছে ঠিক আছে, এবার আপনাদের সঙ্গে যাদের আলাপ করাচ্ছি, তারা হলেন …

(দুজন একই উচ্চতার মানুষ, একজনের গায়ে লাল আর অন্যজনের গায়ে সবুজ পাঞ্জাবি। গলায় বোর্ডে লেখা বামপন্থী বুদ্ধিজীবী এবং ডানপন্থী বুদ্ধিজীবী)

বাম বুদ্ধি - বুদ্ধিজীবী।
ডান বুদ্ধি - হ্যাঁ , আমি ডান আর উনি বাম। গতবছর অবশ্য আমরা একইদলে ছিলাম। আই পি এলে গৌতম গম্ভীর দিল্লি ছেড়ে কলকাতায় এলো, আর আমরাও …

বাম বুদ্ধি - দল বদলে নিলাম, আর কি , হেঁহেঁ

অ্যাঙ্কর - ওয়াও!! দ্যাটস গ্রেইট, আই মাস্ট সে। তা আপনারা কি পারফর্ম করবেন?

ডান -আমরা তো শুধু একটা কাজই করতে পারি, আর আজকেও সেটাই করবো। আমরা প্রতিবাদ করব।

বাম - হ্যাঁ, যে যা  বলবে আমরা তার চরম প্রতিবাদ করব তারপর একটা ট্যাক্সি শেয়ার করে এখান থেকে সটান …

অ্যাঙ্কর - আচ্ছা, থাক থাক। ওটার কথা এখানে না বল্লেও চলবে। সো ড্যুডস অ্যান বেবস , (অন্যদিকে ঘুরে) ইনি জ্বলন্তক কুন্ডু,  এই প্রজন্মের,খাঁটি  বাংলায় যাকে বলে ওয়াই জেনারেশন, তার এক জনপ্রিয় কবি।
তিনি আপনাদের …

আধুনিক কবি - থামুন। আমি আমার ইন্ট্রো নিজেই দিতে পারবো। ভাইয়েরা এবং সেইসব ভায়েদের বোনেরা,
আমি আজ আপনাদের সামনে আধুনিক সাহিত্যের রীতিনীতি নিয়ে কিছু বলব। আর পরিশেষে আমার সবচে প্রিয় কবিতা , যেটা প্রকাশিত হওয়ার পরই লিটিল ম্যাগ এর প্রকাশকের বাড়িতে পাবলিক ঝাঁটা, লাঠি সমেত চড়াও হয়েছিল, সেইটা পাঠ করে শোনাবো।

অ্যাঙ্কর - হাহাহাহাহা!  একেবারে প্রাণঘাতী বলুন?  এই না হলে সাহিত্য! সে যায় হোক বাকি কজনের পরিচয় কারানোর আগে একটা বিজ্ঞাপন বিরতি। তারপর আবার ফিরে আসছি, বাকি অতিথিদের পরিচয়পর্ব আর আলোচনা নিয়ে

মঞ্চ অন্ধকার হলো। নেপথ্যে শোনা গেল " চুল ওঠা চুল পড়া চুলে চুলকানি ,এগুলো কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গমাত্র। যাবতীয় চুলোচুলিকে চুলোয় পাঠাতে ব্যবহার করুন জাহাকমার্কা আলকাতরা। বাহান্নোর সি, নগেন্দ্র মিত্তির লেন, কলিকাতা বাহাত্তর্। আমাদের কোনো শাখা প্রশাখা উপশাখা অপশাখা, অভিশাখা, কিচ্ছু নেই।

আলো জ্বলার সাথেই অ্যাঙ্কার ফিরে এলেন মঞ্চের বাম দিক দিয়ে , ডান দিকে সাজানো চেয়ারগুলোতে উপবিষ্ট খ্যাতনামাদের দেখা যাচ্ছে।)
অ্যাঙ্কার - আবার ফিরে আসি পরিচয়পর্বে। আলোচনা শুরু হলে তখন প্রত্যেকের পরিচয় জানতে পারবেন। সকলের পরিচয় আমি জানাচ্ছি না। ওটা সারপ্রাইজ প্যাকেজ। একেএকে সকলের কাছে যাবো। তাদের বক্তব্য শুনবো, পারফর্মেন্স দেখবো। এখন ওই এক্সট্রিম রাইট কর্নারে যে ভদ্রলোক বসে আছেন , চলুন তার সাথে কথা বলি।
হ্যালো দাদা।বলুন, ক্যামন আছেন?

রাজনৈতিক দালাল -দেখুন , আমার বুকে এই বোর্ডে স্পষ্ট করে লেখা আছে "দালাল" কিন্তু বোন্ধুগন, একটা কথা বলে রাখি, কোনো অ্যাঙ্গেলেই কিন্তু আমি এবং আমার দলের লোকেরা  লাল নয়। আমরা সবুজ। ইংরেজদের অপশাসনের কথা আপনারা জানেন। কিভাবে তারা আমাদের দেশটাকে দীর্ঘকাল ধরে লুটেপুটে খেয়েছে। ওই ইংরেজদের মত এই লালপার্টি তথা ডি পি এন আমাদের সোনার বাংলাকে লোহায় পরিণত করেছে। সেই লোহাকে আমরা আবার সোনায় ,না না , ইউরেনিয়ামে পরিণত করব।
আপনারা শুনলে সুখী হবেন , আমরা প্রায় একশো শতাংশ কাজের শিলান্যাস করে ফেলেছি। আমাদের শিলাদিদি দলের শ্লোগান তৈরি করেছেন , বন্ধুগন। তাই আমাদের শ্লোগান পা , কাটি , ফানুস , অর্থাৎ আমাদের পায়ে পা দিয়ে ঝামেলা পাকাতে এলে তাকে কেটে ফানুস মানে নাই করে উপরে পাঠিয়ে দেব। অগত্যা তাদের ছেলেমেয়েদের ফটোতে পোনাম করে মাধ্যোমিক উচ্চো মাধ্যোমিক দিতে যেতে হবে। আর যারা কথায় কথায় ষড়যন্ত্র করেন, গ্রীষ্মে রোদ বাড়িয়ে দেন, বর্ষাকে লম্বা করে দেন, তাদেরও আমরা ছাড়বো না, ভাইসব।
(কথার ফাকে ফাঁকে বাম বুদ্ধিজীবী মাঝেমাঝে প্রতিবাদ বলে চেঁচিয়ে উঠেই আবার ঘুমোতে শুরু করছেন।) আপনারা শুনলে হেভি আনন্দ পাবেন যে স্বয়ং রোবীন্দ্রোনাথও আমাদের পার্টির কথা বহুকাল আগে বলে গেছিলেন। আমাদের গবেষকরা তার বহু কবিতার লাইন থেকে তার আমাদেরকে সাপোট করার কথা প্রমাণ জানতে পেরেছেন। যেমন ধরুন " ওরে সবুজ ওরে আমার কাঁচা'কিংবা "ভজন পুজন সাধন আরাবুল" কিংবা  আরও ভালোবেসে "গিন্নি বলেন কেষ্টব্যাটাই চোর"
(পাশ থেকে এক ওয়েল শেভড বৃদ্ধ কাঁইকাঁই করতে শুরু করলেন " আরাবুল না ওটা আরাধনা লিখেছিলাম, আর কেষ্টা ছিল আমার …)

…তাই বলছিলাম বোন্ধুরা আপনারা ঐ ডিপিডিএনকে একটাও ভোট দেবেন না। সমোসকিতি মনা মানুষরা জানেন. রোবীন্দ্রনাথ ওদের সম্পর্কে কিচ্ছু লিখে যান নি। আমাদের উত্‍কৃষ্ট শেকড় দলকে ভোট দিয়ে বিপুলভাবে জয়ী করুন , ইঙ্কিলাব জিন্দাবাদ!আমাদের বিপ্লোব দীর্ঘজীবী হোক।

বাম বুদ্ধি -ইকি! আপনার নেতা আমাদের শ্লোগান দিচ্ছে ক্যানো?প্রতিবাদ প্রতিবাদ!

ডান বুদ্ধ - ধুর মোশাই, রাখুন আপনার প্রোতিবাদ!  এই মাত্তোর ছদিন হলো দল বদলে আমাদের দলে এসেছে। এক্ষুনি নতুন ডায়ালগ মুখস্থ হয়?  অভ্যাসেঅভ্যাসে পুরোনো শ্লোগানই মেরে দিয়েচে।

(একেবারে কোণের এক অশতিপর বৃদ্ধ, ন্যাড়ামাথা, গোঁফদাড়ি তাও পরিস্কার করে কামানো, ধাঁইফাঁই করে লাফিয়ে উঠলেন। )

অ্যাঙ্কর - ইকি! আপনি কে? আপনার বুকে বোর্ড নেই?  আর এখানে ইরকম করে লাফাচ্ছেনই বা ক্যানো?

বৃদ্ধ - আমি রবীন্দ্রনাথ।

অ্যাঙ্কর - হোয়াট?  রবীন্দ্রনাথ?

বৃদ্ধ - হ্যাঁ , বর্ষবরণে দিব্যি আমার গান বাজাচ্ছো, দুমদাম গার্লফ্রেন্ডকে ইম্প্রেস করতে আমার কবিতা কবিতা ঝেঁপে দিয়ে  চিঠি লিখছো, আর আমাকে চিনতে পারছো না?

আধুনিক কবি - দাঁড়ান দাঁড়ান মশাই। মাজাকির একটা লিমিট থাকে!  কোথাকার কোন বুড়ো হাবড়া, উড়ে এসে জুড়ে বসে নিজেকে রবীন্দ্রনাথ ভাবছেন। মামারবাড়ির আব্দার পেয়েছেন?
আপনি রবীন্দ্রনাথ হলে আমি …আমি …আমি
আইনস্টাইন , বুঝলেন?

বৃদ্ধ - কেন বত্‍স, তোমার এইরূপ সন্দেহের কারণ কি?  মানে আমি যে সত্যি তোমাদের পরমপ্রিয় কবিগুরু , এ ব্যাপারটা তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না কেন বাপ?

আধুনিক কবি - আরে মোশাই,দাদুর বেশী কবিতা নাহয় তেমন পড়িনি। তাইবলে সেই শিশুওয়ান থেকে দাদুর ছবি দেখে আসছি, লম্বা চুল, ইয়া গোঁফদাড়ি, মেয়েদের মত নাইটি পরা,
ইন্টেলেকচুয়াল হতে গেলে যেমন ছেঁড়া জিন্স আর পাঞ্জাবি লাগে, মুখ্যমন্ত্রী হলেই যেমন গভরমেন্টকে গরমেন্ট বলা শিখতে হয়, তেমনি রবীন্দ্রনাথের দাড়ি মাস্ট।  নো দাড়ি, নো রবীন্দ্রনাথ। বোঝা গেল?

বৃদ্ধ - না, গেল না। এ তোমাদের কেমনতর চিন্তাভাবনা বাপধনেরা? পটল ছাড়া পটলডাঙা হতে পারে, ভোটার ছাড়াও ভোট হতে পারে, বুদ্ধি ছাড়া বুদ্ধিজীবী হওয়াটাও আটকাচ্ছে বলে মনে হয়না!  আর নোবেল খুইয়ে আমি নো দাড়ি হতেই স্ট্যাটাস হারিয়ে রবীন্দ্রনাথ থেকে ডিরেক্ট বুড়ো হাবড়া?  হা কপাল আমার!  ধরণী,  দ্বিধা হও।

আধুনিক কবি - আরে মামা, আই মীন দাদু , ডোন্ট বি ঘাবড়িফায়েড। কেসটা এট্টু পাতলা করে বুঝিয়ে দাও তো। মানে তুমি তো মাইরি ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন কোলকাতা বা অ্যাট জোড়াসাঁকো , কব্বে ফুটে গেছো, তা আজ হঠাত্‍ আমাদের চমকাতে এখানে কেন চাঁদু?

বৃদ্ধ - এখানে আসতে আমার বয়েই গেছে!  আমি তো এখন দিব্যি স্বর্গরাজ্য আছি। এখন ওরা আমাকে হেভভি সম্মান দেয়, জানো? এখন আমার সামনে সবাই জানলাকে বাতায়ন বলে, এমন কি নরকের ছুঁড়িগুলোকে দেখলে স্বর্গের ছোঁড়াগুলো এমন সুর করে  "কালো , তা সে যতোই কালো হোক ,দেখেছি তার …
গায়, শুনলে ব্যোমকে যাবে, বুইলে? তা সেখানে দিব্যি বসে
"মর্মে যবে মত্ত আশা সর্পসম ফোঁসে" এই কবিতাটার ছন্দলিপি ইন্দ্রকে বোঝাচ্ছিলুম, হঠাৎ শুনি আমি নাকি আরাবুল কেষ্ট এমন কি সাধনকে নিয়েও কবিতা লিখে রুলিং পার্টিকে নাকি "সাপোট" করেছি! সেই অনায্য কথাটার প্রতিবাদ করব বলে নেমে এসে দেখি, এই কান্ড!

আধুনিক কবি - সে যায় বলো দাদু, তোমার কবিতা মানে গুচ্ছের ন্যাকামী আর আদা কচলানো, ওসব ছাইপাস এখন লিখলে গুরু , নোবেল তো ছাড়ো, একটা জ্ঞানপীঠও পেতেনা। আচ্ছা কি ভেবে ওই  "আকাশে পাতিয়া কান "  লিখেছিলে গুরু? ওসব কান্ড করতে গেলে মিনিমাম কত হাইট হতে হবে তার আইডিয়া আছে? নাকি অনলি উল্লুক বনায়িং? তবে ওইযে "সাগরজলে সিনান করি সজল এলোচুলে/বসিয়া ছিলে উপল উপকূলে …
এই জায়গাটা পুরো ফাটিয়ে দিয়েছো। আমি তো পড়তেপড়তে মনে হয় পুরো ক্লেভেজটাই দেখতে পাচ্ছি। শ্লা , সব শক্ত কাঠ হয়ে যায় মাইরি। সেজন্যে আমার তোমাকে সেক্সপিয়ারের চেও সেক্সি লাগে।

হঠাৎ একটা তীব্র শোরগোল শোনা যায়। শ্লোগান দিতেদিতে মঞ্চে ঢোকে জনা সাতেক মহিলাদের একটা দল। প্রত্যেকের গলায় ঝোলানো বোর্ডে লেখা বাংলা প্রমীলাপ্রতিরোধ পার্টি।  মঞ্চের সামনে এসে তারা শ্লোগান দিতে থাকেন। সারির সামনের মহিলা "আমাদের দাবী মানতে হবে",   ইত্যাদি শ্লোগান দিচ্ছেন আর পিছনের মহিলারা সমস্বরে ধুয়ো ধরছেন "হু : হা: হু:
চেয়ারে বসে থাকা অভ্যাগতরা অনেক টেবিলের তলায় আশ্রয় নিয়েছেন।

অ্যাঙ্কর - আপনারা কি ইনভাইটি?  মানে পার্টিসিপ্যান্ট , আর যদি তা নাই হয় তবে বিনা অনুমতিতে ঢুকলেনই বা কি করে? হোয়াট দ্য ফা* !

১ম মহিলা - সাট আপ। অনুমতি!  আর কতদিন আপনাদের অনুমতির অপেক্ষায় থাকব বলতে পারেন? আর কতদিন দমনপীড়নের শিকার হবে মহিলারা? কতদিন নিজেদের সাম্রাজ্য ছিনিয়ে যাওয়ার ভয়ে শুধুমাত্র পুরুষতান্ত্রিক অনুমতির বাহানা দিয়ে আমাদের আটকে রাখবেন?

অ্যাঙ্কার - না মানে, আপনার যদি কিছু বলার থাকে তবে চেয়ার গিয়ে বসে সুস্থভাবে …

১ম নারী - গো টু হেল উইথ ইউর সুস্থভাব। এই সুস্থতা, এই আপাত শান্তির ভাব সবই এই পুরুষদের তৈরি। কমরেডস, আমাদের সামনে এখন সবচে বড় চ্যালেঞ্জ এই সিস্টেমের প্রত্যেকটি নারীবিদ্ধেষী চিহ্নকে ধ্বংস করা।
সামনের সতেরো তারিখ আমাদের অভিযানের প্রথম দিন , সেদিন …

আধুনিক কবি - একি ঝামেলা রে বাবা। আমার আধুনিক কবিতা নিয়ে যে আলোচনা …

২য় মহিলা - চুপ করুন। দেখতে পাচ্ছেন না, দিদি বলছেন?

বাম ও ডান বুদ্ধি - আমাদের প্রতিবাদ?

১ম মহিলা - থামুন। নইলে ঘাড় ধরে বের করে দেব। হ্যাঁ , যেকথা বলছিলাম , সামনের সতেরো তারিখ আমরা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব কুতুবমিনার। কারণ আমরা জানি যে ওই কুতুবমিনার যেটা দেখতে ঠিক ছেলেদের ইয়ের মত , এবং সেটা এই পীড়নসর্বস্ব পুরুষতান্ত্রিক সমাজের একটা অহংকারী চিহ্নমাত্র। তাই পণবিরোধী প্রচার নয়, ধর্ষণের বিরুদ্ধে মোমবাতি মিছিল নয়, আমাদের প্রথমকে কাজ হবে …

ইতিমধ্যে পিছনের চেয়ারে রীতিমতো উসখুসানি শুরু হয়ে গেছে।
গায়ক বীভৎস বেসুরে এসো হে বৈশাখ গাইছেন। আধুনিক কবি ভয়ংকর চিত্‍কার করে কবিতা পড়তে শুরু করে দিয়েছেন। দেখাদেখি বাম ও ডান উভয় বুদ্ধিজীবী সুর করে ডুয়েট গাওয়ার মত করে প্লুতস্বরে প্রওওওতিইইইবাআআআদ ..গাইছেন। রাজনৈতিক দালাল দুজন কখনো ইনকিলাব জিন্দাবাদ কখনো বন্দেমাতরম্ কখনো ভারত মাতা কি বলে চেল্লাচ্ছেন। বৃদ্ধ(রবীন্দ্রনাথ) খোনা গলায়. "আঁজি এঁ প্রঁভাঁতেঁ রঁবিঁর কঁর. " আবৃতি করছেন। অ্যাঙ্কর কি বলছেন তা শোনা যাচ্ছেনা। কিন্তু তিনি এই ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্যে সমানে লড়ে যাচ্ছেন, এটা স্পষ্ট।মহিলারা যথারীতি শ্লোগান এবং হু হা হু -র কোরাস চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে মাইকে বাজছে - " চুল ওঠা চুল পড়া চুলে চুলকানি ,এগুলো কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গমাত্র। যাবতীয় চুলোচুলিকে চুলোয় পাঠাতে ব্যবহার করুন জাহাকমার্কা আলকাতরা।

      ---------পর্দা নামে----------

( প্রকাশিত "তবুও প্রয়াস )

No comments:

Post a Comment