28/09/2013

পলায়নী

পলায়নী...(অ্যান ওড টু এস্কেপ)

বুকের মধ্যে চুইঁয়ে পরে
অলখ ব্যথার এক আধ কনা,রান্নাঘরের
দু- হাত আগে,
আমপাতাটির চিকন এসে মর্মে লাগে।
এখন হয়ত মেঘলা চাঁদের বিবর্ণ মুখ
ওজোনঘেঁষা ইষৎ অসুখ
ক্রমাগত
ঘুমের মধ্যে হাতপা ছুড়ছে তোমার মত।

হাতপা ছুড়ছে? বানিয়ে কেন ওসব বলো,এ শব মিছে
একলা কাঁটা জামার নিচে,
দুর্বিসহ অনাবাদের অলক্তরাগ।
গালের লালে চিরন্তনী ব্যথার পরাগ
যেসব স্মৃতি মুখের ছাঁচে পথচলাকেই উস্কে দিত
সে মোড়গুলো এখনও প্রায় অনতীত।
কল্কে জ্বলে,অনভ্যাসের বোতাম খোলা, ভীষণ পাতি
তোমার চাওয়া একধরনের প্রত্যাঘাতই।

এইযে তুমি গা দুলিয়ে তুমুল হাসছো রানীর মত
কান্নাগুলো জমিয়ে রাখছো নিয়ত সাবধানীর মত
এইযে স্বচ্ছ শাড়ির ফাঁকে অন্যরকম আলতামিরা'ই
আরোহ দেয় ভুল ইশারা। কিশোরি রাই,
সন্ধিপুজোর সপ্তমীতে আঁচলা খসি
পড়লো,তোমার বয়স ষোলো,একটু তোমার পাশেই বসি?

কিংবা এখন তোমার বয়স ত্রিশ পার হয়ে
একত্রিশের ঘাটের দিকে যাচ্ছে বয়ে
চোখের নিচে মেঘ করেছে
অতীত প্রেমের দাগ পড়েছে
কান্নাগুলো লুকিয়ে রাখো খুব গোপনে
ফিসফিসিয়ে সবাই বলে,তোমার মধ্যে তেমন কোনো রহস্য নেই
তবুও তো ছাই স্বপ্ন দেখো ক্ষীন জোয়ারে
ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তোমার প্রত্নখাঁচা আশোয়ারে।

এইযে শোনো,সদ্য কেনা রঙিন ব্লাউজ,স্টেনোগ্রাফার,
রঙের নিচে ছেঁড়া ব্রা'য়ের গল্প শুনে লাভ কি আমার?
অফিস ফেরৎ আমার সাথে এদিক ওদিক বাইরে যেতে,
বরং কিছু উপরি পেতে।
কি যায়  আসে খুবলে খেলাম একটু নরম হাসির ফাঁকে?
এমনিতেও তো ওসব গুলো ঢাকাই থাকে।
ধুঁকতে ধুঁকতে গর্তে ফিরছো,বাঁচার তাড়া
তোমার প্রেমের আগের স্টেশন অফিসপাড়া।

কিংবা তুমি স্বপ্ন দেখ। স্বপ্ন দেখার
দায় কি শুধু  নির্বিরোধী আমার একার?
ভাবতে থাকো,এইযে  ত্যাঁদোড় পোষ না মানা আগামীকাল
কালই আসবে। এইযে আকাল
ওই ওদিকে আড্ডা দিতে পালিয়ে যাবে
আশার ধূনী রংমশালটা জ্বালিয়ে যাবে
তুমুল গন্ধ মাখছে বাতাস এমনি নাকি?
মেঘ উঠেছে ঈশানকোনে, বৃষ্টি হবেই, বলছে পাখি

যদিও জানো তাকিয়ে দেখার  সম্মোহনে..
শিরার মধ্যে বসন্ত নেই
বাঁচার রসদ
পালিয়ে যাওয়ার অনেক নিচে লালায় ভরা জীবন্ত হ্রদ
ইচ্ছে মতন পোশাক টোশাকফেলছে খুলি।
তুমিই উজান,তুমিই ভাঁটার কর্ণফুলি
পেরিয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়াই
আর কিছু নয়,জীবন মানে এমনি করেই বাঁচতে চাওয়া।

No comments:

Post a Comment