তাহাকে
এক
আমি যে নামের প্রত্যন্ত কোনায় নতজানু,যার অবারিত সন্ধ্যাবকাশআর কটা দিন পরে প্রেম নামে খ্যাত হবে। অবোধ্য কার্পাসের মনে কৃতঘ্ন সে হাওয়া
পথ ভুলে তুলোতুলো থাকে। দুর্গন্ধ লুকিয়ে নশ্বর বাওয়াল
কিছু ভুল পথে টেনে নিয়ে গেল,তারা কি বালিকা? তারা কি কেবল
আদ্যাক্ষরের মুছে যাওয়া ট্যাটু ?কে জানে কতটা জেদে ডিসপ্লের তলে
কালো পুরু সন্দেহের দাগে খোনাখোনা ঘুম লাগে আঁচে?
বাহুমূলে গোলগোল সিগারেট-ছ্যাঁকা, সেকটা বসন্ত নয়। প্রেমট্রেম কিছু যদি থাকে
কিছু যদি সুপ্ত বলে অহরহ মানি,তবে সেই দগদগে প্রতিদিন তিলেতিলে জুড়েছে আমাকে।
আমি তাকে স্পষ্টতই ঘৃনা করি,এই উচ্চারণে প্রেমের লাগোয়া কিছু তীব্র বিবমিষা,
থরোথরো ছুঁয়ে কলঘরে যায়। তবুও চিত্কার করে কাঁদে, 'ভালোবাসি' বলে।
তবু তার বাঁহাতের পাশে দৃশ্যমান দাগ,অনাসক্তি ছিঁড়ে,থমথমের হিসেব চেয়েছে।
আমাকে সে কুচিকুচি করে,হাওয়াতে উড়িয়ে,আমার সে উড়ে যাওয়া কুচি খুঁজে
নিজে কুচিকুচি হয়ে,মেলাতে পারেনা,তাই কাঁদে। আমি দুঃখে তামাতামা হয়।
তামাদি আবেগে ছুতো'র বল্কল খুলে চকচকে দুটি পায়ে রেখে,
পতিত বৌদ্ধের মত তার কাছে,আরো কাছে যাবো।
অজস্র লোকের ভিড়ে,সে আমার মুখে থুতু দেবে,
ল্যুপ-লাইনের ধারে,আমি তার পায়ে চুমু খাবো
দুই
আমি তোর প্রণয়ের বামে
আমি তোর স্পষ্টতই গুম হয়ে থাকা
একা'টি উজানে ভাঙি পেলব-হারামে।
কি কথা শুনেছে গলি,কি কথা আরাম
কি কথা মেখেছে গায়ে জল,সেকি বনসাই
মেকি ভোর,নাকি শুধু চন্দ্রগ্রস্ত ঘাম
চাওয়াটি সরিয়ে রাখে,পাওয়াটি বিছিয়ে
কল্পিতকাঁপন এক নগ্নঅর্থ মাঠ
আঁধারে চলেছে পথ,শিস দিয়ে দিয়ে
তোকে কি কেটেছি আমি,সহজে খুঁড়েছি?
যতবার ছোঁবো বলে বাড়িয়েছি হাত,দাঁতেরা এসেছে আগে
ততবার,আমি তোর ভাঙ্গাচোরা পাশ দিয়ে গেছি
দোষের বারণে তুই কাটাকুটি,বক্ষলগ্ন আলোটির পাশে
অর্ধেক আঁধার,আর প্রচলিত অতীতের দায়
ফোঁটাফোঁটা কালো জমে নিবিড় অভ্যাসে
না ছোঁয়া যতটা ঘন শ্বাপদ-সাজিয়ে রাখা আগাছার বন
নুপুরে নুপুরে চেনা অগোছালো পোশাকী তাড়না ছিঁড়ে
মৃত্য তত বড় নয়,বুড়িছোঁয়া মফস্বলী পাশের স্টেশন ।
তিন
আমার প্রেমিকা জাগে বিচ্ছেদের খানিকটা আগে।
সে আমার ক্ষতস্থানে হাত রাখে। হাওয়া দিলে তার
দেখা সাদামাটা ঘুমে এসে লাগে।
সে ক্রন্দসী,নিভাষিনী,দীপ্ত শবাসনা
কাঁটার কাকলি আর চাহিদার মত খাঁটি সোনা
ছাপোষা বিকেল কাটে অপেক্ষার,তারপর......
পরিচিত চাঁদও তিনকোনা।
আশরীর যজ্ঞঘিয়ে মাখা হবিস্যান্ন জ্বলে,
সে থাকে ঘৃণায়, পলেপলে
নাছোঁয়া গভীরে খেলে পরবর্তী পাওয়ার উন্মেষ,
তিলতিল মৃত্যুবহ, হাবিয়ায় জাকামে'র তলে..
আমি তাকে যত কাছে চাই,
সে হাত অদূর থেকে,ক্রমাগত সুদূরে পালায়।
শিকড়ে জড়াবো ভাবি,গোলাপপ্রত্যাশী,সুহাসিনী
যন্ত্রণার লাল মেখে ঠোঁটে, বিয়েবাড়ি যায়।
তবুও তো সে আমার একমাত্র,নির্দ্বিধায় বলি,
সদ্যভেজা বৈমাত্রেয় ঘ্রাণ আর সুপ্ত মনোপলি
আমাকে আদর করে,গলাকে কামড়ে ধরে,
তার সহমরণের ভিন্ন কথকলি।
চার
তামার আধুলি আর চন্দন-প্রলাপে
তুলসীর পাতা দিয়ে যে আমাকে যতনে সাজায়,যে অস্ফুটে মৃত্যু বলে ডাকে,
সে আমার বিকৃতির পাড়া দিয়ে হেঁটে যেতেযেতে
আগামী শবের দিকে আড়চোখে শুধু চেয়ে থাকে।
সে জানে,যদি সে নদী,আমি শুধু অস্থিচর্মসার,
আশার জঞ্জাল ঘাঁটি,গভীরে গভীরে আমিও পাপস্থ জল আমিও ক্ষয়াটে,
আমি তাকে যত দুয়ো দিই,ততখানি সে আমাকে ঘুন হয়ে কাটে।
সে জানে প্রেমের মানে,অপ্রেমের দিব্য উচ্চারণ,
আপাদমস্তক পোড়া চিতার কাঠেরা কচি পাতা টেনে আনে দীপ্ত অঘটনে।
কতখানি প্রেমে আছে ঝরাপাতা তার? অভিসার
যে শেকড়ে মুখ ঢাকে বিপ্রতীপ প্রতি প্রয়োজনে।
No comments:
Post a Comment